ফোনেই সানজিদার যোগাযোগ তাহেরপুত্রের সঙ্গে


ফোনেই সানজিদার যোগাযোগ তাহেরপুত্রের সঙ্গে
ফোনেই সানজিদার যোগাযোগ তাহেরপুত্রের সঙ্গে

জমিজমা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে জেলখানায় দেখা করে বিপ্লবের সহায়তা চেয়েছিলেন ফেরদৌসী খায়ের। সঙ্গে ছিলেন মেয়ে সানজিদা। সেই তাদের প্রথম দেখা। এরপর আরও কয়েকবার কারাগারে দেখা হয় তাদের। কারাগারের ভেতরে থাকলেও বিপ্লব উদ্যোগ নিয়ে ফেরদৌসী খায়েরের জমিসংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করে দেন। এতে ফেরদৌসী পরিবারের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে কারাবন্দি বিপ্লবের। কারাগার থেকেই মোবাইলে ফেরদৌসী খায়ের ও তার মেয়ে সানজিদা’র সঙ্গে যোগাযোগ করতেন বিপ্লব। এ থেকেই শুরু হয় প্রেম। সেই প্রেমই শেষ পর্যন্ত গড়ালো বিয়েতে। গত শুক্রবার বিকালে ঘটা করে বিয়ে হলো তাদের।
পৌরসভার লাশচরী গ্রামের পণ্ডিত বাড়ির লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের অনার্সের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী সানজিদা’র সঙ্গে এইচএম বিপ্লবের কারাগারের ফটকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিয়ের কাজ শেষ হয়। এর আগে কারাগারের ভেতরে সাজাপ্রাপ্ত আসামি এইচএম বিপ্লবের গায়ে হলুদের আয়োজন করা হয়। এদিকে শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টায় পৌর মেয়রের বাসভবন থেকে মেয়র আবু তাহের, তার স্ত্রী নাজমা তাহের, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট নূর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন, চররুহিতা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কবির হোসেন পাটওয়ারীসহ শতাধিক নারী-পুরুষ আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে কনের বাড়িতে খাবারে অংশ নেন। চারটি প্রাইভেট কার ও ২০টি মোটরসাইকেলে কনের বাড়িতে যান সবাই। খাবার শেষে বরযাত্রীরা কনে সানজিদাকে তাদের গাড়ি বহরে নিয়ে আসেন মেয়র আবু তাহেরের পিংকি প্লাজায়। রাত ১০টায় নববধূকে একটি নোয়া মাইক্রোযোগে নিয়ে যাওয়া হয় জেলা কারাগারের মূল ফটকে। সেখানে তাকে গ্রহণ করে নিয়ে যাওয়া হয় এক কর্মকর্তার বাসায়। সেখানে তাদের বাসর হয়। পরে ওই রাতেই সানজিদাকে জেলা কারাগার থেকে নিয়ে আসা হয় তার শ্বশুরবাড়িতে। তবে এ বিষয়ে যোগাযোগ করে কারা কর্তৃপক্ষের কারও কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এদিকে কারাগারে থেকে তাহের-পুত্র বিপ্লবের বিয়ের খবরটি ছিল গতকাল লক্ষ্মীপুরের টক অব দ্য টাউন। জেলা অধিবাসীর সবার মুখে মুখে ছিল এ বিয়ের কথা।
২০০০ সালের ১৮ই সেপ্টেম্বর রাতে সাবেক পিপি ও জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট নুরুল ইসলামকে লক্ষ্মীপুর শহরের উত্তর মজুপুর একটি বাসা থেকে সাদা মাইক্রোবাসে অপহরণ করা হয়। পরে তাকে হত্যা করে লাশ কয়েক টুকরা করে মেঘনা নদীতে ফেলে দেয় সন্ত্রাসীরা। পরে পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে তাহেরের তিন ছেলে বিপ্লব, লাবু ও টিপুর নেতৃত্বে নুরুল ইসলামকে অপহরণ করা হয়। ওই রাতেই তাহেরের বাসায় তার স্ত্রী নাজমা তাহেরের উপস্থিতিতে নুরুল ইসলামকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। এরপর লাশ টুকরা টুকরা করে বস্তায় ভরে মেঘনা নদীতে ফেলে দেয়া হয়। ২০০২ সালের ৩০শে জুলাই আবু তাহের, তার স্ত্রী নাজমা, তিন ছেলেসহ ৩১ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ২০০৩ সালের ৯ই ডিসেম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল এ মামলার রায় দেয়। তাতে তাহেরের ছেলেসহ পাঁচ আসামির মৃত্যুদণ্ড ও নয়জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়। বিপ্লব এ মামলার পর থেকে পলাতক ছিল। ২০১১ সালের এপ্রিলে আদালতে আত্মসমর্পণ করে সে। গত আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা থাকাকালে প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমান তার মৃত্যুদণ্ডাদেশ মওকুফ করেন। এ ছাড়া যুবদলকর্মী কামাল ও শিবির নেতা মহসিন হত্যা মামলায় বিপ্লবের যাবজ্জীবন সাজা হয়েছিল।

Advertisements