রাজধানীসহ সারাদেশে ৮ খুন : বি.বাড়িয়ায় প্রবাসীকে গলা কেটে, চৌদ্দগ্রামে শ্বশুরবাড়িতে জামাইকে বিষ খাইয়ে, চুয়াডাঙ্গায় নেশাখোর ছেলের পিটুনিতে বাবা, নবাবগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধে রড দিয়ে পিটিয়ে উপজাতি, রাজবাড়ীতে বৃদ্ধকে কুপিয়ে, আশুলিয়ায় ধর্ষণের পর তরুণীকে গলা কেটে ও রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ইট দিয়ে মাথা থেতলে স্ত্রীকে হত্যা করল স্বামী


Khun-gabtali,bogra

রাজধানীসহ সারাদেশে ৮টি নৃশংস খুনের ঘটনা ঘটেছে। রাজধানীর বাইরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, চুয়াডাঙ্গা, দিনাজপুরের নবাববগঞ্জ, রাজবাড়ী, সাভারের আশুলিয়ায় এ সব খুনের ঘটনা ঘটে।
রাজধানীতে খুনের ঘটনাটি ঘটে যাত্রাবাড়ীতে। সেখানে পারিবারিক কলহের জেরে এক গৃহবধূকে ইট দিয়ে পিটিয়ে মাথা থেতলে হত্যা করেছে স্বামী। এ ঘটনায় ওই পাষণ্ডকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পরকিয়ার জেরে প্রবাসী স্বামীকে গলাকেটে হত্যার দায়ে গ্রেফতার করা হয়েছে এক গৃহবধূকে। চৌদ্দগ্রামে পারিবারিক কলহের জেরে জামাইকে বিষ খাইয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠেছে শ্বশুর বাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে।
চুয়াডাঙ্গায় নেশাখোর ছেলের পিটুনিতে খুন হয়েছে বাবা। নবাবগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে এক উপজাতিকে। রাজবাড়ীতে তুচ্ছ ঘটনায় কুপিয়ে হত্যা করা হয় এক বৃদ্ধকে।
এছাড়া সাভারের আশুলিয়ায় ধর্ষণের পর গলা কেটে নৃশংস কায়দায় হত্যা করা হয় এক তরুণীকে। বিস্তরিত ডেস্ক রিপোর্টে :
বি.বাড়িয়ায় প্রবাসীকে গলা কেটে হত্যা : ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পরকীয়ার জের ধরে এক প্রবাসীকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার রাত ৮টায় পৌর এলাকার কলেজপাড়ার বাসা থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের নাম আল-আমিন চৌধুরী (৩২)। তিনি সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামের মন মিয়া চৌধুরীর ছেলে। শনিবার জেলা সদর হাসপাতালে নিহতের ময়নাতদন্ত সমপন্ন হয়।
নিহতের বড় ভাই জাহাঙ্গীর চৌধুরী জানান, পাঁচ বছর পূর্বে কসবার কুটি গ্রামের সাজেদা বেগমের সাথে আল আমিন চৌধুরীর বিয়ে হয়। প্রবাসে থাকা অবস্থায় মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়লে চার মাস আগে ওমান থেকে দেশে চলে আসেন। এরপর ঢাকায় একটি কাপড় তৈরির দোকানে কাজ নেয়। দেড় মাস আগে তিনি স্ত্রী সাজেদা বেগম (২০) ও তিন বছরের কন্যা ইমাকে নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার কলেজপাড়ার মাহবুব আলমের বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস শুরু করেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় তার স্ত্রী আমাদের ফোন করে জানায় তাকে কে বা কারা গলা কেটে হত্যা করেছে।
তিনি আরও জানান, ছোট ভাইয়ের স্ত্রী মোবাইলে পরকীয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের পরিবারে কলহ লেগে থাকতো। এ নিয়ে ঝগড়া বিবাদ লেগে থাকতো। তার স্ত্রী ব্যাংকে জমাকৃত টাকা ও কৃষি জমি নিজের নামে লিখে দেয়ার জন্য তার ওপর চাপ প্রয়োগ করে। এতে আল আমিন রাজি না হওয়ায় তার স্ত্রী সাজেদা বাপের বাড়ি চলে যায়।
এদিকে নিহতের স্ত্রীর পরিবারের লোকজন দাবি করেন, শুক্রবার মাগরিব নামাজের পর সাজেদা বেগম বাবার বাড়ি থেকে বাসায় এসে দেখেন ঘরের দরজা জানালা ও সব লাইট বন্ধ। সিটকিনিতে হাত দিয়ে দেখেন দরজা খোলা। ঘরের ভিতরে সব এলোমেলো। ভিতরের কক্ষের বিছানার ওপর চাদর টান দিতেই তিনি তার স্বামীর গলা কাটা লাশ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে। এ সময় বেশ কয়েকটি সিরিঞ্জ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্ত্রীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
সদর থানার ওসি (তদন্ত) মো. কামাল পাশা জানান, শুক্রবার দিনের কোন এক সময় তাকে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের গলা কাটা ছিল। পা বাধা ছিল এবং দু’হাতে চাপ দিয়ে ধরার দাগ রয়েছে। নিহতের বড় বাদী হয়ে মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
চৌদ্দগ্রামে শ্বশুরবাড়িতে জামাইকে বিষ খাইয়ে হত্যার অভিযোগ : চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি জানান, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে শ্বশুরবাড়িতে মশিউর রহমান মিঠু (২৮) নামের এক সন্তানের জনকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। তিনি উপজেলার জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের মৃত আবদুল মুনাফ ভূঁইয়ার ছেলে। শনিবার সকালে পুলিশ লাশটি উদ্ধার শেষে ময়মানতন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকের কলেজ হাসপাতালে মর্গে প্রেরণ করেছে।
মিঠু শুক্রবার বিকেলে পাশ্ববর্তী চিওড়া ইউনিয়নের চাপিরতলা গ্রামে শ্বশুর আবদুল হকের বাড়িতে ঈদ উপলক্ষে বেড়াতে যায়। রাতে রহস্যজনকভাবে সেখানে তার মৃত্যু হয়। তার মুখে বিষের গন্ধ রয়েছে। শ্বশুরপক্ষের লোকজন তাকে শনিবার সকালে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিত্সক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ঘটনার পর থেকে মিঠুর স্ত্রী তাসলিমা আক্তার পানুসহ শ্বশুরপক্ষের লোকজন পলাতক রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বেশ কয়েকদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে ঝগড়ার কারণে এ ঘটনা ঘটতে পারে।
নিহতের ভাই মিজানুর রহমানের অভিযোগ, ‘মিঠুকে মারধরের পর মৃত্যু নিশ্চিত শেষে শ্বশুরপক্ষের লোকজন মুখে বিষ ঢেলে দেয়। এরপর তারা হাসপাতালে লাশ রেখে পালিয়ে যায়’।
এ ব্যাপারে চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই শহিদ জানান, ‘লাশ উদ্ধার শেষে ময়নাতদন্তের জন্য কুমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ছাড়া বিস্তারিত কিছু বলা যাবে না’।
চুয়াডাঙ্গায় বাবাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে ছেলে : চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি জানান, জুয়া খেলায় বাধা দেয়ায় চুয়াডাঙ্গায় বাবাকে কিল-ঘুষি ও পিটিয়ে হত্যা করেছে কুলাঙ্গার ছেলে। শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ডিঙ্গেদাহ গ্রামে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে ছেলে আবদুস সালাম পলাতক রয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ডিঙ্গেদাহ গ্রামের এশিয়া পাড়ার দরিদ্র ভ্যান চালক ফকির চাঁদের ছেলে আবদুস সালাম চিহ্নিত জুয়াড়ি। শুক্রবার রাতে জুয়ায় হেরে সালাম বাড়ির হালের বলদ বিক্রি করার চেষ্টা করেন।
এতে বৃদ্ধ পিতা বাঁধা দিলে রাতে পিতা- পুত্রের মধ্যে কথা কাটাকাটির ঘটনা ঘটে। এর একপর্যায়ে কুলাঙ্গার পুত্র সালাম ক্ষুব্ধ হয়ে জন্মদাতা পিতাকে কিল-ঘুষি ও পিটিয়ে হত্যা করে।
খবর পেয়ে রাতেই চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মুন্সি আসাদুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার পর থেকেই সালাম পলাতক রয়েছে।
নবাবগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধে রড দিয়ে পিটিয়ে উপজাতিকে হত্যা : ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি জানান, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর নবাবগঞ্জ উপজেলার কচুয়া গ্রামে ঘুটু সরেন (৫৫) নামে এক উপজাতিকে রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে প্রতিবেশীরা। নিহত ঘুটু সরেন উপজেলার কচুয়া গ্রামের মৃত ফাগু সরেনের ছেলে। এ নিয়ে এলাকার আদিবাসীদের মাঝে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
উপজাতি নেতা ইলিয়াস সরেন বলেন, ঘুটু সরেনের পৈতৃক জমির ভুয়া মালিকানা দাবিকে কেন্দ্র করে নিহত ঘুটু সরেনের সাথে পার্শ্ববর্তী হিলির ডাঙ্গা গ্রামের আসিনুর রহমানের ছেলে আবদুল গোফফার, আজগর আলী, আবদুল আলিম ও সুজন মিয়ার দীর্ঘদিন থেকে বিরোধ চলে আসছিল।
শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় ঘুটু সরেনে হিলির ডাঙ্গা বাজারে গেলে প্রতিপক্ষরা ঘুটু সরেনকে আবদুল গোফফারের বাড়িতে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে গিয়ে লোহার রড দিয়ে অমানুষিক নির্যাতন চালায়। এ সময় ঘুটু সরেনে চিত্কারে বাজারের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘুটু সরেনকে উদ্ধার করে ফুলবাড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে আসে। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে রংপুর নেয়া হলে সেখানেই তার মৃত্যু ঘটে। এ ব্যাপারে মামলা প্রস্তুতি চলছে।
রাজবাড়ীতে বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যা : রাজবাড়ী প্রতিনিধি জানান, রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বালিয়াকান্দি সদর ইউনিয়নে তুচ্ছ ঘটনায় হায়দার বিশ্বাসের ছেলে নুরুল বিশ্বাস ওরফে নুরুকে (৬১) কুপিয়ে হত্যা করেছে। তাকে বালিয়াকান্দি হাসপাতালে আনলে কর্তব্যরত চিকিত্সক ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। শুক্রবার তার অবস্থার অবনতি হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠালে সেখানে চিকিত্সারত অবস্থায় সেখানে রাতে মারা যায়।
প্রত্যড়্গদর্শী ও এলাকাবাসী জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে বালিয়াকান্দি গ্রামের ফেলা বিশ্বাসের মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাঈদ বিশ্বাসকে একটি থাপ্পড় মারে নুরু বিশ্বাস। বিয়ে শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এ নিয়ে মিরাজ বিশ্বাস ধারালো অস্ত্র দিয়ে নুরু বিশ্বাসকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায়। লোকজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় বালিয়াকান্দি হাসপাতালে আনলে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। ফরিদপুরে অবস্থার অবনতি হলে শুক্রবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে চিকিত্সাধীন অবস্থায় রাতে তার মৃত্যু হয়। এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
আশুলিয়ায় ধর্ষণের পর তরুণীকে গলাকেটে হত্যা : আশুলিয়ার টঙ্গাবাড়ী এলাকায় অজ্ঞাত এক তরুণীকে ধর্ষণের পর কুপিয়ে ও গলাকেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার দুপুরে টঙ্গাবাড়ী চালা এলাকায় আবদুর রাজ্জাকের মালিকানাধীন একটি বাঁশবাগানের ভেতর থেকে গলা কাটা ও হাত-পা বাঁধা অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় তার পরণে লাল প্রিন্টের কামিজ ও সবুজ রংয়ের সেলোয়ার ছিল।
প্রতক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার দুপুরে চালা এলাকায় ব্যবসায়ী আবদুর রাজ্জাকের বাঁশবাগানে অজ্ঞাতনামা তরুণীর গলা কাটা লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ এসে লাশটি উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে সাভার সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) রাসেল শেখ জানান, প্রাথমিকভাবে নিহতের পরিচয় জানা না গেলেও ঘটনাস্থল থেকে তার ব্যবহৃত একটি সাইড ব্যাগ ও হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে পুলিশ।
হাত-পা বাঁধা অবস্থায় নিহত তরুণীর লাশটি উদ্ধা করা হয়। জবাইয়ের পাশাপাশি তার বুকে এবং হাতের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে রাতেই কোনো এক সময় পরিকন্তিভাবে তরুণীকে গণধর্ষণের পর গলাকেটে হত্যা করা হয়। ধর্ষণের পরে হত্যা করে লাশটি বাগানেই ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।
নিহতের লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক) মর্গে পাঠানো হয়েছে জানিয়ে এএসপি বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা করা হচ্ছে।
গাবতলীতে স্বামী ও ছোট সতীন মিলে বড় সতীনকে শ্বাসরোধে হত্যা : গাবতলী (বগুড়া) প্রতিনিধি জানান, বগুড়ার গাবতলীতে পারিবারিক কলহের জেরধরে স্বামী ও ছোট সতীন মিলে বড় সতীনকে গলায় ফাঁস লাগিয়ে হত্যার অভিযোগে উঠেছে। স্থানীয় জনগণ ছোট সতীন রোখসানাকে আটকের পর গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ্য করলেও অভিযুক্ত স্বামী পালিয়ে গেছে। শনিবার বিকেল অনুমান ৩টায় উপজেলার মহিষাবান ইউপির রানীরপাড়া (চাচিয়ার পাড়া) গ্রামে। ঘটনার দিন ঐ গ্রামের সবুজ মিয়ার প্রথম স্ত্রী আছিয়া বেগমকে (৩৫) স্বামী ও ছোট সতিন রোখসানা মিলে পারিবারিক কলহের জেরধরে নিজঘরে গলায় ফাঁস লাগিয়ে হত্যা করে বলে গ্রামবাসী ছোট সতীন রোখসানকে আটক করে গণধোলাইয়ের পর পুলিশে সোপর্দ করে। এ ঘটনায় স্বামী সবুজ গ্রেফতার এড়াতে পালিয়ে গেছে। পুলিশ বিকেল অনুমান সাড়ে ৩টায় ঘটনার স্থান থেকে লাশ উদ্ধার ও রোখসাকে আটক করেছে।
এ ব্যাপারে মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুর রাজ্জাক খানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, পারিবারিক ও যৌতুকের কারণে স্বামী ও ছোট সতীন মিলে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আছিয়াকে হত্যা করতে পারে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। ছোট সতীন রোখসানাকে আটক করা হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ বলা সম্ভব নয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে ওসি জানিয়েছে। লাশ উদ্ধারে ওসি তদন্ত নুরে-ই-আলম সিদ্দিকি, এসআই জাহিদ হাসান, নজরুল ইসলামসহ সঙ্গীয় ফোর্স ঘটনাস্থলে যান।
যাত্রাবাড়ীতে স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন, স্বামী গ্রেফতার : রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে পান্না আক্তার ওরফে মিতু (২১) নামে এক গৃহবধূ স্বামীর ইটের আঘাতে নির্মমভাবে খুন হয়েছেন। এ ঘটনায় জনতা তার স্বামীকে আটক করে পুি্লশে সোপর্দ করেছে। শনিবার দুপুর ৩টার দিকে তাদের নিজ বাসাতেই ওই খুনের ঘটনা ঘটে।
নিহত মিতু যাত্রাবাড়ীর পশ্চিম রায়েরবাগ এলাকার আনিসুর রহমান নান্টুর স্ত্রী। তারা ওই এলাকার ২ নম্বর রোডের ৪১ নম্বর বাসায় থাকতেন।
নিহতের বড় বোন মুক্তা আক্তার জানান, তিন বছর আগে মিতা ও নান্টু নিজেদের পছন্দে বিয়ে করে। আলভী নামে তাদের দুই বছরের একটি ছেলে সন্তান আছে।
নান্টু কোনো কাজ করতেন না। মিতু টিউশনি করে সংসার চালাতেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রী মধ্যে প্রায়শই ঝগড়া হতো।
শনিবার দুপুরেও এ নিয়ে ঝগড়ার একপর্যায়ে নান্টু ইট দিয়ে মিতুর মাথায় আঘাত করে। এতে তার মাথা থেতলে যায়।
মুমূর্ষু অবস্থায় মিতুকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিত্সকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর জনতা নান্টুকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে।
ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোজাম্মেল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

Advertisements